আবুল কালাম আজাদ:
কক্সবাজারের চকরিয়ায় একজন পৌর কাউন্সিলও মাদ্রাসা সুপারের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। আহত কাউন্সিলরের নাম মুজিবুল হক। তিনি চকরিয়া পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের দুই বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র এবং মজিদিয়া দারুচ্ছুন্না পৌর দাখিল মাদ্রাসার গর্ভরনিং কমিটির সভাপতি ও দারুস সুন্নার মাদ্রাসার সুপার বৃহস্পতিবার (৮ জুন) বিকাল সাড়ে ৩ টায় পৌর শহরের হাসপাতাল সড়কে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় মুজিবুল হক ও মাদ্রাসার সুপার নুরুল আবচার সিদ্দিকী আহত হন। স্হানীয় নাছির উদ্দীন ও জামাল উদ্দীন সহ ৫/৬ জনের দুবৃত্তের একটি সংবদ্ধ দল মুজিবুল হক ও নুরুল আবচার সিদ্দিকীকে বেড়ধক পিটিয়ে আহত করেন। এসময় কাউন্সিলর মুজিবুল হকের পকেটে থাকা ২ লাখ টাকা ও আধা ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের আংটি চিনিয়ে নেন। এদিকে আহত মুজিব হক ঘটনার পর পর স্হানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন মজিদিয়া মাদ্রাসার জমির উপর নির্মিত মার্কেটের দোকান দীর্ঘ ৪১ বছর যাবৎ ভাড়া দিয়ে ওই ভাড়ার টাকা মাদ্রাসার প্রাতিষ্ঠানিক একাউন্টে জমা হয়। ভাড়া থেকে মাদ্রার ১২ জন শিক্ষকের বেতন ভাতা সহ অন্যান্য খরচ নির্বাহ করা হচ্ছে। কিন্তু উক্ত মাদ্রাসা মার্কেটের দোকান ভাড়া নিয়ে মসজিদ কমিটির বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েক ব্যক্তি অবৈধ ও অনৈতিকভাবে ৪১ বছরের ভোগ দখলীয় দোকানের ভাড়া আদায়ের লক্ষ্যে মাদ্রাসা মার্কেটের দোকানদারগণকে ভাড়া মসজিদ কমিটিকে প্রদান করতে হবে বলে চাপ সৃষ্টি করেন এবং ব্যবসা বাণিজ্য করেতে চাইলে তাদেরকে চাঁদা দিতে হবে বলে হুশিয়ারি দেন। উক্ত চাঁদাবাজীর বিষয়ে মাদ্রাসা কমিটির সদস্য সচিব ও সুপার দোষকৃতকারীদের বিরুদ্ধে বিগত ১৮/০৫/২০১৩ইং তারিখে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়ার জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সি. আর. মামলা নং- ১০৬৯/২০২৩ দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।
বৃহস্পতিবার বিকালে পিবিআই কক্সবাজার এর একটি টিম মামলাটি তদন্ত করতে ঘটনা স্হলে আসেন। এসময় দুবৃত্তেরা কাউন্সিলর মুজিবুল হক ও সুপার নুরুল আবচার মজিদীর উপর হামলা করেন। পরে ইউএনও জেপি দেওয়ান ও চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ চন্দন কুমার ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্সসহ গিয়ে দুবৃত্তদের কবল থেকে তাদেরকে উদ্ধার করেন। সন্ধ্যায় আহতরা চকরিয়ার অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে করেছে।এসময় উপস্হিত ছিলেন কাউন্সিলর নুরুল আমীন, সাইফুল ইসলাম, হেলাল উদ্দিন, রাশেদা বেগম ও আঞ্জুমান আরা বেগম।
Leave a Reply